সেন্টমার্টিন থেকে পর্যটক নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশে দ্বীপ ছেড়েছে পর্যটকবাহী জাহাজগুলো। এর মধ্য দিয়ে শেষ হচ্ছে চলতি মৌসুমের পর্যটকদের সেন্টমার্টিন যাত্রা।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে জাহাজগুলো সেন্টমার্টিন ছেড়ে গিয়েছিল।
এদিকে সবকিছু অনুকূলে থাকলে আগামী পর্যটন মৌসুমে পুনরায় পর্যটকরা এই প্রবাল দ্বীপে ভ্রমণের সুযোগ পাবেন।
দ্বীপে ঘুরতে আসা পর্যটক তানভির বলেন, এবার সেন্টমার্টিন দ্বীপে ভ্রমণ করে এক ভিন্ন ও আনন্দময় অভিজ্ঞতা হয়েছে। পর্যটক সংখ্যা নিয়ন্ত্রিত থাকায় দ্বীপের পরিবেশ ছিল শান্ত, পরিচ্ছন্ন ও স্বস্তিদায়ক। অতিরিক্ত ভিড় না থাকায় নীল সমুদ্র, প্রবালপাথর ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য খুব কাছ থেকে উপভোগ করার সুযোগ পেয়েছি।
রাত্রিযাপনের সুযোগ থাকায় দিনের পাশাপাশি রাতের সেন্টমার্টিনকেও অনুভব করতে পেরেছি। রাতে সমুদ্রের কলকল ধ্বনি, নির্মল আকাশ আর নীরব পরিবেশ ভ্রমণকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে। পরিবার নিয়ে নিরাপদভাবে সময় কাটাতে পেরেছি।
স্থানীয় দুইজন পর্যটন ব্যবসায়ী আবুল কালাম ও জিয়াবুল বলেন, পর্যটক কম হওয়ায় চলতি মৌসুমে ব্যবসায়িকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করতে পারেননি, এমনকি সামগ্রিক খরচও পোষাতে হিমশিম খেয়েছেন। তবে কেউ কেউ কোনো রকমে খরচ তুলতে সক্ষম হয়েছেন।
ভ্যান চালক সাইফুল করিম জানান, কিস্তিতে রিকশা কিনে ঋণ শোধ করতে পারেননি তিনি। এখন বাধ্য হয়ে আবার অনিশ্চিত মাছ ধরার পেশায় ফিরতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা আমরাও চাই। তবে সেই সঙ্গে পর্যটন ব্যবসায়ী ও পর্যটননির্ভর দ্বীপবাসীর ক্ষতি যেন না হয়, সে বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। সেন্টমার্টিনের পরিবেশ রক্ষা যেমন জরুরি, তেমনি পর্যটননির্ভর মানুষের জীবন-জীবিকার বিষয়টি মাথায় রেখে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি।
সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, চলতি পর্যটন মৌসুমের ডিসেম্বর-জানুয়ারি এ দুই মাসে সেন্টমার্টিনে পর্যটকদের ভ্রমণ শেষ হলো। কিন্তু এই দু’মাসে দ্বীপে পর্যটকের সংখ্যা প্রত্যাশার তুলনায় কম ছিল। ফলে পর্যটননির্ভর মানুষজন তেমন লাভবান হতে পারেননি। অনেক ব্যবসায়ী তাদের দৈনন্দিন খরচ ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধে হিমশিম খেয়েছেন। কেউ কেউ কোনোমতে ব্যবসার খরচ তুলতে পারলেও সামগ্রিকভাবে এ মৌসুমটি দ্বীপবাসীর জন্য আশানুরূপ হয়নি। এতে পর্যটনকে কেন্দ্র করে জীবিকা নির্বাহকারী মানুষের মধ্যে ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা তৈরি।
তিনি আরও বলেন, দ্বীপের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষা আমাদের সবার দায়িত্ব। তবে একই সঙ্গে পর্যটননির্ভর মানুষগুলোর জীবন-জীবিকার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে হবে।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)
মো. ইমামুল হাফিজ নাদিম বলেন, সরকারের বিধিনিষেধ ও নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী সেন্টমার্টিন দ্বীপে পর্যটকদের ভ্রমণের শেষ সময় ছিল ৩১ জানুয়ারি। নির্ধারিত সময়ের পর দ্বীপে পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে, যাতে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য বজায় রাখা যায়।
এ সময়ের মধ্যে সেন্টমার্টিনে অবস্থানরত সব পর্যটক নিরাপদে নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরে গেছেন।




