চট্টগ্রামের কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান ফাজিল খাঁর হাট এলাকায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ৯টার দিকে সংঘটিত এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
বিএনপির নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেছেন, সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল, যার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য এস এম ফারুক হোসেন বলেন, নির্বাচনের দিন হিন্দুপাড়ার ভোটারদের নিয়ে সৃষ্ট বিরোধের ধারাবাহিকতায় এ হামলার ঘটনা ঘটে।
তিনি জানান, স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী দৌলতপুর জামে মসজিদে নামাজ আদায় শেষে ফেরার পথে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে যুবদলের সদস্য শাহেদুল আলম টিটু, কৃষকদল নেতা মঞ্জুর আলম ও ছাত্রদল নেতা ইমনসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার পরপর তীব্র নিন্দা ও বিক্ষোভ মিছিল করে কর্ণফুলী উপজেলা থানা বিএনপি। ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানান সাবেক থানা বিএনপির আহবায়ক এস.এম মামুন মিয়া। শনিবার ২১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে উপজেলায় বড়উঠান ফাজিল খাঁর হাট এলাকায় পুনরায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেন কর্ণফুলী বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠন।
কর্ণফুলী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম বলেন, ‘মূলত নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে জামায়াতের লোকজন হামলার ঘটনা ঘটিয়েছেন। এতে আমাদের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। আহত তিনজন রাতে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়িতে চলে আসছে, গুরুতর আরও তিনজন ভর্তি রয়েছেন।’
অন্যদিকে জামায়াতের নেতারা বিএনপির অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা অভিযোগ করেছেন। কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুদ্দিন জাহাঙ্গীর দাবি করেন, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকেই বিএনপির নেতাকর্মীরা জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালায় এবং পরে বাজার এলাকায় এসে আবারও হামলা করে।
এতে জামায়াতের আলমগীর, এনাম ও মামুনসহ অন্তত ৮ থেকে ১০ জন আহত হন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও ভাঙচুর চালিয়েছে, যা স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
জামায়াত নেতারাও বিবৃতি দিয়ে হামলার বিচার দাবি করেন এবং তাদের কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। বিবৃতিতে জানানো হয়, শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে স্থানীয় বিএনপি ও মাদক ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে দফায় দফায় হামলা চালানো হয়। পরে ফাজিল খাঁর হাট বাজারে গেলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা টিটুর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয় এবং কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়।
এদিকে শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে জামায়াতে ইসলামী কর্ণফুলী উপজেলা আমীর সেক্রেটারি মনির আবছার চৌধুরী ও নুর উদ্দিন জাহাঙ্গীর বিবৃতিতে দাবী করেন, শুক্রবার সন্ধ্যা হতে স্থানীয় বিএনপি জামায়াত কর্মীদের বাড়িতে দফায় দফায় হামলা করে। পরবর্তীতে সমাধানের জন্য ফাজিল খার হাট বাজারে আসলে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা টিটুর নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলা করা হয়।
এতে জামায়াত নেতা আলমগীর, এনাম ও মামুনসহ ৮-১০ আহত হয় ও বেশ কয়েকটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা করা হয়। হতাহতদের মধ্যে মামুন ও আলমগীরের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
এ বিষয়ে কর্ণফুলী থানার অপারেশন অফিসার নুরুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
সংঘর্ষের পর থেকে কর্ণফুলী উপজেলার বড়উঠান এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশঙ্কা করছেন, রাজনৈতিক বিরোধ অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের সহিংসতা ঘটতে পারে। তারা দ্রুত প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।




