চসিকের ঘাট ই’জারা বিজ্ঞপ্তি- স্ব স্ব ঘাট ইজারা নিয়ে শ’ঙ্কিত সাম্পান মাঝিরা

আবারো ফেরিঘাট ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।গত ১৪জানুয়ারী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কমকর্তা(উপসচিব) এসএম সরওয়ার কামাল কর্তৃক জারিকৃত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়,স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়,স্থানীয় সরকার বিভাগের নিদের্শনা অনুযায়ী চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নিয়ন্ত্রণাধীন ফেরিঘাট সমূহ ১৪৩২ বাংলা সনের ১লা বৈশাখ হতে ৩০শে চৈত্র ১(এক)বৎসর মেয়াদের জন্য ইজারা প্রদানের নিমিত্তে সীল মোহরযুক্ত দরপত্র আহ্বান করা যাচ্ছে। বিজ্ঞপ্তির ২নং শর্তাবলীতে বলা হয় সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক চসিক’র তালিকা ভূক্ত পাটনীজীবি/পাটনীজীবি সংগঠনের সদস্য মর্মে প্রত্যয়নপত্র দাখিল সাপেক্ষে নির্ধারিত মূল্যে দরপত্র ফরম ক্রয় করতে হবে।

এ ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর থেকে সাম্পান মাঝিদের মধ্যে চলছে স্ব স্ব ঘাট ইজারা পেতে নানা আলোচনা এবং গুঞ্জন।অনেক মাঝিরা বলছেন চসিকের এ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আমরা যদি উপযুক্ত দাম দিতে না পারি তাহলে পাটনীজীবি নামধারী ব্যবসায়ীরা এ ঘাট ইজারা নিয়ে ফেলবে,তখন আমরা প্রকৃত পাটনীজীবিরা বঞ্চিত হবো নিজেদের অধিকার থেকে।

চরপাথরঘাটা সাম্পান মালিক সমিতির সভাপতি আবুল হোসেন বলেন,আমাদের এ ঘাট গুলো নিয়ে বরাবরই ষড়যন্ত্র হয়,এর আগেও তৎকালীন প্রধান রাজস্ব কমকর্তা থাকাকালীন এ ঘাট খতিত পাটনীজীবি নামধারী ব্যবসায়ীরা চক্রান্ত করে তাদের দখলে ঘাট ইজারা নেওয়ার জন্য।ঘাট যদি ব্যবসায়ী মহলের হাতে চলে যায়,তাহলে যাত্রী পারাপারে ভোগান্তি এবং সাম্পান মাঝিদের সঙ্গে চাঁদাবাজি শুরু করবে।তাই আমি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ করবো আপনারা সরেজমিনে এনে জরিপ করে প্রকৃত পাটনীজীবিদেরকে ঘাট ইজারা দেন।

বাংলাবাজার ঘাট সাম্পান মালিক সমিতির সভাপতি লোকমান দয়াল বলেন,সাম্পান আমাদের বাপ-দাদার ঐতিহ্য বহন করে,কালের পরিক্রমায় আমরা সে হাল ধরেছি।যদি এ গরীব সাম্পান মাঝিদের মধ্যে ব্যবসায়ী ডুকে যায় তাহলে আমরা আমাদের বাপ-দাদার অস্তিত্ব হারাবো ব্যবসায়ীদের কব্জায় জিম্মি হয়ে।তাই চসিক মেয়র মহোদয়ের নিকট অনুরোধ করবো আমাদের ঘাট গুলো যেন স্ব স্ব পাটনীজীবিদের কে ইজারা দেন।

সদরঘাট সাম্পান চালক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুর মোহাম্মদ বলেন,চসিক যে সিডিউল মূল্য নির্ধারণ করেছেন সে মূল্য আমরা দেওয়ার চেষ্টা করবো।তবে চসিক যদি আমাদের কে না দিয়ে অধিক দামে ব্যবসায়ী মহল কে দিয়ে দেই তাহলে আমরা সাম্পান মাঝিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবো,এক্ষেত্রে আমাদের এ পেশা টিকিয়ে রাখা হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।আমরা অল্প আয় রোজগারের মাধ্যমে পরিবার চালাচ্ছি,সেখানে কিভাবে চসিক কে এতো টাকা দিয়ে ঘাট ইজারা নিবো।
কর্ণফুলী নদী সাম্পান মালিক কল্যাণ সমিতি ফেডারেশনের সভাপতি এসএম পেয়ার আলী বলেন,বৈঠা যাঁর ঘাট তাঁর,এর কোনো বিকল্প নেই।

সাম্পান মাঝিরা বাঁচলে,কর্ণফুলী বাঁচবে। আর কর্ণফুলী বাঁচলে-বাংলাদেশ বাঁচবে।তাই চসিকের উচিৎ প্রকৃত পাটনীজীবি যাচাই-বাছাই করে ঘাট ইজারা দেওয়া।যদি চসিকের স্বজনপ্রীতি  এবং অবহেলার কারণে ঘাট ব্যবসায়ী মহলের হাতে চলে যায় তাহলে এ সাম্পান মাঝিরা তাদের অধিকার হারাবে, অপরদিকে সাধারণ যাত্রীরা ব্যবসায়ীদের হাতে জিম্মি হয়ে যাবে,পড়বে ভোগান্তির মুখে।

ঘাট ইজারা বিষয়ে জানতে চাইলে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের প্রধান রাজস্ব কমকর্তা(উপসচিব) এসএম সরওয়ার কামাল বলেন,ঘাট ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে অব্যশয় প্রকৃত পাটনীজীবি বা পাটনীজীবি সংগঠন গুলো কে যাচাই-বাছাই করে ঘাট ইজারা দেওয়া হবে।যাঁরা চসিকের তালিকা ভূক্ত পাটনীজীবি তারাই পাবে এ সুযোগ।তবে সর্বোচ্চ দরদাতা ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে ঘাট ইজারা দেওয়া হবে।কারণ আপনারা জানেন এ টাকা সরকারের রাজস্ব খাতের আওতায় জমা হবে,সে ক্ষেত্রে এখানে কোনো রকম অনিয়ম কিংবা স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে ঘাট ইজারা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

উল্লেখ,আগামী ৯ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত চলবে এ ঘাট ইজারারা ফরম বিতরণ এবং ১০ফেবুয়ারী ২০২৫ দরপত্র দাখিল করা হবে। মোট ২০টি ঘাট ইজারা দেওয়া হবে চসিকের আওতাধীন।

Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn
Share on whatsapp
WhatsApp
Share on email
Email