তামাক গ্রহণ করছে শিশুরা, সচেতনতা জরুরি

অনেক শিশুকেই তামাকজাত বিভিন্ন জিনিস গ্রহণ করতে দেখি। সঙ্গীদের সাথে মেলামেশার মধ্য দিয়েই প্রধানত এর সূত্রপাত ঘটে।

তামাকের ক্ষতিকর দিকগুলো সম্পর্কে না জেনে বন্ধুদের প্ররোচনায় কিশোর কিশোরীরা তামাক গ্রহণ করে। এত এত প্রচারের পরও তামাকদ্রব্য মৃত্যুর কারণ হতে পারে এটি যেন খেয়ালই থাকে না।

কিশোর-কিশোরীদের মন স্বভাবতই কৌতূহলপ্রবণ। শুধুমাত্র কৌতূহলের বশেও অনেকে তামাক গ্রহণ করে থাকে। অনেক অভিভাবক এটাকে তেমন বড় করেও দেখে না।

কৌতূহল মেটানোর বিষয়টি একটা পর্যায়ে অভ্যাসে পরিণত হয়। বেশি মাত্রায় যেটা দেখা যায়, শিশু-কিশোররা ধূমপান করছে। পরে একটা পর্যায়ে এটি গিয়ে আরও বড় ধরনের নেশার দিকে নিয়ে যায়।

বেকারত্ব, নিঃসঙ্গতা, প্রিয়জনের মৃত্যু, পারিবারিক অশান্তি ইত্যাদি কারণে অনেকের মনে হতাশার সৃষ্টি হয়। আর এই হতাশা থেকে মুক্তি লাভের আশায়ও অনেকে নেশা করে থাকে। নেশা করলে মন ভালো থাকবে এমন একটি বিশ্বাসই কেবল মনে কাজ করে। কিন্তু এটা ঠিক নয়। এই ধারণা একেবারেই ভুল। এতে হতাশা বাড়ে, কমে না।

পারিবারিক অশান্তি বা বন্ধনের বিষয়টি আমি মোটা দাগে বলতে চাই। বাবা-মায়ের স্নেহ ও মনযোগের অভাবে বা বঞ্চিত হয়ে অনেক শিশু হতাশায় ভোগে। তারাও এই পথে আগাতে পারে।

২০১৭ সালে হ্যালোর এক সরেজমিন প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানী ঢাকায় ইউনিফর্ম পরেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে প্রকাশ্যেই শিক্ষার্থীদের ধূমপান করতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে কয়েকজন স্কুল ও কলেজ পড়ুয়ার ভাষ্যে উঠে আসে কেন তারা ধূমপান করছে, ‘আধুনিকতা বা ট্রেন্ড’ মনে করে।

২০১৩ সালে বেসরকারি সংগঠন ‘ক্যাম্পেইন ফর ক্লিন এয়ার’ একটি জরিপের ফলাফল প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, ২০১২ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে এক বছরে কিশোর ও তরুণ ধূমপায়ী বেড়েছে ১১ শতাংশ। আর ৫৬ শতাংশ ১৮ বছরের আগেই ধূমপান শুরু করে।

এই তথ্যগুলো আমাদের জন্য ভয়ঙ্কর বার্তা দেয়। খুব দ্রুতই এর সমাধান বের করতে হবে। অন্যথায় এটি আমাদের একটি প্রজন্ম ধ্বংস করে দিতে সক্ষম। নতুন এই প্রজন্মকে বাঁচানোর দায়িত্ব পরিবার থেকে শুরু করে সরকার সকলেরই।

প্রতিবছর ৩১ মে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস পালন করা হয়। তামাকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতার লক্ষ্যে পালিত হয়ে আসছে দিবসটি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*