ফিলিস্তিন ইসরায়েল সংঘাাত: জো বাইডেনের পররাষ্ট্র নীতিতে কেন বড় মাথাব্যথার কারণ

  • বারবারা প্লেট আশার, বিবিসি

গাযায় হামাসকে লক্ষ্য করে ইসরায়েলের বিমান হামলার কারণে মধ্য প্রাচ্য ইস্যুকে জো বাইডেন তার কার্যসূচিতে অন্তত অন্তর্ভুক্ত করতে বাধ্য হচ্ছেন। কিন্তু তিনি মানবাধিকারের বিষয়কে যেভাবে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন, সেটা ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে তিনি কতটা প্রয়োগ করতে উদ্যোগী হবেন – তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন অধিকৃত পূর্ব জেরুসালেমে ইসরায়েল তাদের অধিকার কতটা কায়েম করতে সক্ষম হয়েছে, এই সংঘাতের মধ্যে দিয়ে তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই সংঘাত আবার মনে করিয়ে দিয়েছে যে সেখানে দানা বাঁধা অসন্তোষের জেরে এবারের যুদ্ধ শুরু হলেও এটা আরও ব্যাপকভিত্তিক ও গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু নিয়ে লড়াই। এবং অগ্নিগর্ভ এই পরিস্থিতি একসময় থিতিয়ে গেলেও দীর্ঘদিন ধরে চলা ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি সংঘাতের প্রশ্নে বাইডেন প্রশাসনকে আরও গভীরভাবে জড়িয়ে পড়তে হতে পারে।

আর ঠিক এই সম্ভাবনাটাই এড়াতে চাইছেন প্রেসিডেন্ট বাইডেন এবং তার শীর্ষ উপদেষ্টারা।

তারা এটা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে তাদের কূটনৈতিক অগ্রাধিকার এখন অন্য ক্ষেত্রে। মধ্যপ্রাচ্যে যে শান্তি উদ্যোগে আমেরিকা নেতৃত্ব দিয়েছিল, তাদের খোঁড়া সেই কবর নিয়ে এ পর্যন্ত বাইডেন প্রশাসন বিশেষ কথাবার্তা বলেনি।

তবে ট্রাম্প প্রশাসনের পররাষ্ট্র নীতিতে যে রকম নির্লজ্জভাবে ইসরায়েল-পন্থী মনোভাবের প্রতিফলন ছিল খুব একটা জানান না দিয়ে বদলানোর চেষ্টা করছে বাইডেন প্রশাসন।

কিন্তু সেখানে সফল হতে গেলে ফিলিস্তিনের সাথে ভেঙে পড়া সম্পর্ক মেরামতের বিষয়ে তার প্রশাসনকে মনোযোগী হতে হবে, এবং ইসরায়েলের সাথে দীর্ঘস্থায়ীভাবে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একটা সফল ও কার্যকর ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের প্রতি মৌখিকভাবে তার প্রশাসনের সমর্থন প্রকাশ করতে হবে। ফিলিস্তিন ইসরায়েল সঙ্কট নিয়ে নতুন করে শান্তি আলোচনার পথে হাঁটতে এই মুহূর্তে আগ্রহী নন প্রেসিডেন্ট বাইডেন

তবে বাইডেন প্রশাসনের হিসাব অনুযায়ী ইসরায়েল ফিলিস্তিন নিয়ে নতুন দফা আলোচনার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ, এবং তাই তারা আমেরিকার পররাষ্ট্র নীতির মূল ফোকাস এখন চীন ইস্যুতে সরিয়ে নিয়ে বদ্ধপরিকর।

ই সপ্তাহে প্রশাসনের ফোকাস আবার মধ্য প্রাচ্যের দিকে ঘুরে গেছে দেশটির পররাষ্ট্র নীতির একটা গৎ বাঁধা প্যাটার্ন মেনে।

প্রেসিডেন্ট এবং তার পররাষ্ট্র মন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন আবার আমেরিকার চিরাচরিত ভাষায় কথা বলেছেন। তারা জোর দিয়ে বলেছেন ফিলিস্তিনি রকেট হামলার মুখে ইসরায়েলের আত্মপক্ষ সমর্থনের অধিকার রয়েছে।

ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ফিলিস্তিনিদের সংখ্যা বাড়তে থাকা মি. ব্লিঙ্কেন উদ্বেগ প্রকাশ করলেও তিনি দুই পক্ষের হামলাকারীদের মধ্যে “একটা পরিষ্কার পার্থক্য রয়েছে” উল্লেখ করে বলেছেন “একটি হল সন্ত্রাসবাদী সংগঠন যারা বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করছে এবং ইসরায়েল হামলা চালাচ্ছে সন্ত্রাসীদের লক্ষ্য করে”।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*